
নয়াদিল্লি: ধনী-দরিদ্রের মধ্যে অসাম্য বাড়ছে দিন দিন। যাঁরা বিত্তশালী, তাঁদের মধ্যেও ফারাক বাড়ছে যত দিন যাচ্ছে। হাতে গোনা কিছু লোকজনের হাতে কল্পনাতীত সম্পদ রয়েছে বলে উঠে এল Wealth Tracker India 2026-এর রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, দেশের পাঁচটি পরিবারের সম্পদে ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি চোখে পড়েছে। এর ফলে ভারতের অর্থনীতিতেও বিভাজন ক্রমশ চওড়া হচ্ছে বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। (Wealth Inequality in India)
Wealth Tracker India 2026-এর রিপোর্ট বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের পাঁচটি পরিবারের সম্পদ বেড়েছে ৪০০ শতাংশ। সেই নিরিখে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের সম্পদে নিম্নবিত্ত ৫০ শতাংশের অংশীদারিত্ব ৬.৪ শতাংশেই আটকে রয়েছে। যে পাঁচটি পরিবারের কথা বলা হয়েছে, তারা হল, মুকেশ আম্বানি, গৌতম আদানি ও তাঁর পরিবার, সাবিত্রী জিন্দল ও পরিবার, সুনীল মিত্তল ও পরিবার এবং শিব নাডার। (Inequality in India)
Centre for Financial Accountability & Tax the Top রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, ভারতে অর্থনৈতিক বৈষম্য এতই বেড়েছে যে, তা কদর্য আকার ধারণ করেছে, সাধারণ মানুষের বোধগম্যই আর নেই বিষয়টি। ১৪০ কোটির জনসংখ্যার দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৬৮৮ জনের সম্পত্তির পরিমাণ ১০০০ কোটি বা তার বেশি। তাঁদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১৬৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা ভারতের জিডিপি-র প্রায় ৫০ শতাংশ। GDP থেকে ১ শতাংশ খরচ বৃদ্ধি করা যাবে স্বাস্থ্যখাতে, শিক্ষাখাতে ১ শতাংশ খরচ বাড়ানো যাবে, পাশাপাশি, সমস্ত প্রবীণ নাগরিকদের মাসে ১২০০০ টাকা করে পেনশন দেওয়া যাবে। বর্তমানে জনকল্যাণ খাতে প্রবীণদের মাসে মাত্র ২০০ টাকা করে দেয় কেন্দ্র।
জনকল্যাণ খাতে বিনিয়োগের সংস্থান নেই বলে যে দাবি করে কেন্দ্র, তা এই রিপোর্ট নস্যাৎ করে দিল বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বড় বড় সংস্থার কর কেন মকুব করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তাবড় কর্পোরেট সংস্থার চেয়ে বেশি কর দেন। গত ১১ বছরে সরকার ঋণখেলাপের ১৯.৬ লক্ষ কোটি টাকা মকুবও করে দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মুকেশ আম্বানির সম্পদ বেড়েছে ১৫৩ শতাংশ, গৌতম আদানির ৬২৫ শতাংশ। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মুকেশ আম্বানির সম্পদের উপর থেকে যদি ২ শতাংশ কর নেওয়া হতো, তাহলেই তিন বছর ধরে দেশের সব দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীকে ল্যাপটপ দেওয়া যেত বিনামূল্যে। ২.৫৮ কোটি মহিলাকে মাসে ১৮০০০ টাকা করে দেওয়া যেত প্রায় দু’বছর ধরে। গৌতম আদানির থেকে ২ শতাংশ কর নেওয়া হলে দু’বছর বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পেত গোটা দেশ। ৮ কোটি পরিবারকে বিনামূল্যে এয়ার পিউরিফায়ার দেওয়া যেত।
This article was originally published in ABP ANANDA and you can read here.
Centre for Financial Accountability is now on Telegram and WhatsApp. Click here to join our Telegram channel and click here to join our WhatsApp channel and stay tuned to the latest updates and insights on the economy and finance.